গণভবনে দলের সাংগঠনিক সভায় আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন!

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো বেগবান করতে গত রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আট বিভাগের আটজন সাংগঠনিক সম্পাদককে নিয়ে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বৈঠকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম অগ্রগতির বিষয় ছাড়াও দলের নেতা ও কিছু এমপি-মন্ত্রীর বিব্রতকর মন্তব্যের বিষয়ে শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরেন সাংগঠনিক সম্পাদকরা।

বিব্রতকর মন্তব্যের তালিকায় আলোচিত নাম ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সভায় আব্দুল মোমেনের ‘বিভ্রান্তিমূলক’ ও ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য সভাপতির কাছে তুলে ধরা হয়। দলের সভাপতি বিষয়গুলো শুনেছেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলেননি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে ঢাকা প্রশ্ন ছিল আব্দুল মোমেনের একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যে আওয়ামী লীগ বিব্রত কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘মোমেনের এসব অতিবচনে অবশ্যই আওয়ামী লীগ বিব্রত। এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের বৈঠকে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে বলা হয়েছে।’

এই নেতা বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে যখন নাভিশ্বাস এবং জনগণকে বোঝাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে, তখনই উল্টাপাল্টা মন্তব্য করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছেন সরকারের দায়িত্বশীল কয়েকজন মন্ত্রী। তাদের কাছ থেকে কখনো এসব আশা করা যায় না।’

বৈঠকে উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগের দুজন সাংগঠনিক সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কয়েকজন মন্ত্রীর অতিবচনে একের পর এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে সরকার। দলের হাইকমান্ড থেকে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েও মন্ত্রীদের ‘অতিবচন’ থামানো যাচ্ছে না। এসব বেফাঁস কথা-বার্তা নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

আগামী বছরের শেষের দিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এখন থেকে সবার উচিত সতর্ক হয়ে কথা বলা, সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরা।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, বিতর্কিত মন্তব্য করলে তো সমালোচনা হবেই। তার জন্য দল অবশ্যই বিব্রত।আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো বিব্রতকর মন্তব্য আশা করে না। এ ধরনের মন্তব্যে আওয়ামী লীগ অবশ্যই বিরক্ত, বিব্রত। আওয়ামী লীগ জনগণের দল সবসময় মানুষের কথাই চিন্তা করে। কিন্তু কেউ যদি বিতর্কিত মন্তব্য করে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সেটা মোটেই কাম্য নয়।

Share this post

PinIt
submit to reddit

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top