টাঙ্গাইল ভোরের সড়ক ছিনতাইকারীদের অভায়ারণ্য!

টাঙ্গাইল শহরের ভোর সকাল ভয়ঙ্কর। গভীর রাতের পর থেকে ভোর পর্যন্ত অরক্ষিত হয়ে পড়ে টাঙ্গাইল শহর। ক্লান্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তখন ঘুমকাতর। ঘুমিয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের আপামর মানুষজন। সেই সুযোগে রাস্তাঘাট হয়ে ওঠে দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্য। মাদকসেবী আর ছিনতাইকারীদের দখলে চলে যায় শহরের প্রতিটি প্রান্তর। জরুরী কাজের প্রয়োজনে রাস্তায় বের হলে সর্বস্ব খোয়ানোর ঝুঁকি তো আছেই, এমনকি খুন বা গুরুতর আহত হবেন না- এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতিমাসে গড়ে ২০-৩০টির বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে শহর, উপশহর, উপজেলা ও এমনকি গ্রামগুলোতে।

টাঙ্গাইরের বিভিন্ন থানা এলাকার বেশ কিছু স্পটে কয়েকদিনের গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত খোঁজ খবর নিয়ে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, দুর্বৃত্ত-ছিনতাইকারী চক্র কতটা ভয়ঙ্কর। কাগজপত্রে রাতের বেলা থেকে ভোরে টাঙ্গাইল শহরের সড়কে পুলিশের ডিউটি থাকলেও মাঠে গিয়ে দেখা যায়, গাড়িতেই তারা ঘুমাচ্ছেন। টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড, নিরালা মোড়, কলেজ পাড়া, প্যারাডাইজ পাড়া, ভিক্টোরিয়া রোড, আদালত পাড়া, বাজিতপুর, আকুরটাকুর পাড়া, উদ্যানের পাশে ক্লাব রোড, আশেকপুর বাইপাস, রাবনা বাইপাস, আকুরটাকুর পাড়া, পার্কবাজার মোড়, শান্তিকুঞ্জের মোড়, বেপারিপাড়া, গোডাউন ব্রিজ, ডিস্টিক এলাকায় ছিনতাই প্রবণ এলাকায় এমন চিত্র খুবই করুণ।

এছাড়া পৌর শহরের শান্তিকুঞ্জের মোড়, কলেজ পাড়া, প্যারাডাইজ পাড়া, কুমুদিনী কলেজ মোড়, বাঁকা মিয়ার ব্রিজ, শামসুল হক তোরণ মোড়ে সড়কের উপর আবাসিক এলাকাগুলোতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে সিএনজি, অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড। এসব অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে শহরের পাড়ামহল্লাগুলোতে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে।করোনার আগে জেলা পুলিশের প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল শহরের প্রায় ৫০টি স্পটে অন্তত অর্ধশতাধিক সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত ও ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা সক্রিয়। যা এখন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যরাত ও ভোর পর্যন্ত শহরের অনেক স্থানই চলে যায় এই ধরনের দুর্বৃত্তদের দখলে। বিশেষ করে নির্জন সড়ক এবং অলিগতি হলে তো কথাই নেই। ভাসমান পতিতা আর তৃতীয় লিঙ্গের সঙ্গে সখ্য গড়ে মাদক সেবনে নেশাগ্রস্ত হয়ে অপরাধী কর্মকান্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়ে অপরাধীরা। খোদ পুলিশ কর্মকর্তারাই ছিনতাইসহ অপরাধ বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে ছিনতাই এড়াতে জনগণকে নির্জন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া মাঠ-পুলিশকে তৎপর থাকার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার আমার টাঙ্গাইলকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন অপরাধকে ছাড় দিবে না। শহর ও শহরতলীর রাত ও ভোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। মানুষের জানমাল নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ আগেও কাজ করেছে, এখনও কাজ করবে। মাদকসেবী, ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এছাড়া শহরের অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো উচ্ছেদে পুলিশ ভূমিকা পালন করবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ও হাইওয়েতে সিসি টিভি স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কাজ চলছে।

Share this post

PinIt
submit to reddit

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top