আশার আলো দেখাচ্ছে এলজিইডির ‘টাঙ্গাইল উন্নয়ন প্রকল্প’!

টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) দুই হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে ৮৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। ১২ উপজেলায় প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরিপূর্বক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ শুরু করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে মাইলফলক রচিত হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে চাহিদা বিশ্লেষণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ‘গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প : টাঙ্গাইল’ নামে একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে। স্ব স্ব স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ডিও লেটারের (ডেসপাস লেটার) অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে ওই প্রকল্প নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়। এতে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। কিন্তু পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থসংস্থান অপ্রতুল হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে ৮৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা হয়েছে।এলজিইডির প্রকৌশলী মোল্লা মিজানুর রহমান ওই প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ উপজেলায় প্রায় ২১০টি প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরি করে দরপত্র আহ্বানের জন্য টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশনাও দিয়েছেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- গোপালপুর উপজেলায় ১২ কোটি ৫৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩.৯৯ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণ, নাগরপুরে ৩১ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৩.২২ কিলোমিটার, ঘাটাইলে ১৬ কোটি ৫৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮.৪১ কিলোমিটার, ভূঞাপুরে ৭ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৮.৫৮ কিলোমিটার, টাঙ্গাইল সদরে ১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২১.৫০ কিলোমিটার, কালিহাতীতে ১৪ কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫.৮৫ কিলোমিটার, বাসাইলে ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬.৬০ কিলোমিটার, সখীপুরে ২১ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২১টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২২.৫৫ কিলোমিটার, মধুপুরে ২৮ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২২টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩২.২৩ কিলোমিটার, ধনবাড়ীতে ১৬ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২১টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭.৮২ কিলোমিটার এবং মির্জাপুর উপজেলায় ১৮ কোটি ৭৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০.৮৩ কিলোমিটার কাঁচা গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণ। এরমধ্যে দেলদুয়ার উপজেলায় ১০টি প্রকল্পের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩টি প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে এবং বাকিগুলো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম আমার টাঙ্গাইলকে জানান, ‘গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প : টাঙ্গাইল’র বাস্তবায়নে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থ অপ্রতুলতার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে ৮৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এলজিইডি থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ কোটি ব্যয়ে ২১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ অর্থবছরে অন্তত ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, জেলার সংসদ সদস্যদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে এ মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গ্রামীণ ছোট ছোট সড়কগুলো পৃথক পৃথক প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে জেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণের জীবনমানের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে।

Share this post

PinIt
submit to reddit

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top