আজ গোপালপুরের পাঁচ ইউপিতে নির্বাচন- ৫০ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ!

আজ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে ৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন অফিস।

ইভিএম এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পরিষদে ভোট দেয়া নিয়ে ভোটারদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠানের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। সেই সাথে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আলাদা নজর রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী আজ সোমবার উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে মির্জাপুর, আলমনগর, হাদিরা, নগদাশিমলা এবং ধোপাকান্দি এ ৫টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১৬ জন, সংরক্ষিত (নারী) আসনে ৫১ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ১৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫টি ইউনিয়নে ৫০টি কেন্দ্রে মোট ১১৭০৭৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৮ হাজার ৮৯২ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ৫৮ হাজার ১৮১ জন।

স্থানীয়রা বলছেন এবার প্রতিটি ইউনিয়নেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে ৭ জন। এছাড়া বিএনপি সরাসরি নির্বাচনে না আসলেও তাদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সব প্রার্থীই তাঁদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। সবাই একটি অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার আশা করছেন।

মির্জাপুর ইউনিয়নে ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) আবু ফারুক মিঞা (আনারস) এবং বিএনপি (স্বতন্ত্র) মোখলেস (চশমা)। এ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য প্রার্থী ৩০ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৪ হাজার ২২৬ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৯টি এবং ভোট কক্ষ রয়েছে ৭০টি।

ধোপাকান্দি ইউনিয়নে ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) মো. আব্দুল হাই (আনারস) এবং আনোয়ার হোসেন (ঘোড়া)। এ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য প্রার্থী ২৮ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার ২১ হাজার ৭৫০ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১০টি এবং ভোট কক্ষ রয়েছে ৬২টি।

নগদাশিমলা ইউনিয়নে ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. হোসেন আলী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) গোলাম মোস্তফা আঙুর (আনারস) এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী খন্দকার শহীদুল আলম (লাঙ্গল)। এ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য প্রার্থী ৩৬ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৭৫০ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১০টি এবং ভোট কক্ষ রয়েছে ৭১টি।

হাদিরা ইউনিয়নে ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিলকিছ জাহান (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) আলমগীর হোসেন (ঘোড়া), সেলিম আজাদ (আনারস) এবং বিএনপি (স্বতন্ত্র) আবুবকর সিদ্দিকী (চশমা)। এ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য প্রার্থী ৩৭ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৬ হাজার ৫৬০ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১১টি এবং ভোট কক্ষ রয়েছে ৭২টি।

আলমনগর ইউনিয়নে ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল মোমেন (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) মফিজুর রহমান লুৎফর (আনারস) এবং বিএনপি (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মোহাম্মদ এহসানুল হক চৌধুরী ওপেল (চশমা)। এ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য প্রার্থী ২৩ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৮ হাজার ৫৫৪ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১০টি এবং ভোট কক্ষ রয়েছে ৫৪টি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে ইভিএম মেশিন বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। পুরো নির্বাচনী এলাকায় ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ৪ জন পুলিশ সদস্য ও ১৪ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। আর পুরো নির্বাচনী এলাকায় ৩ প্লাটুন বিজিবি কাজ করছে। এছাড়া র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের টিমও কাজ করছে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, নির্বাচনে পুলিশের ৫২৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যাক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। আশা করছি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

Share this post

PinIt
submit to reddit

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top