টাঙ্গাইলে আতঙ্ক কাটেনি ৭ গ্রামের মানুষের!

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পর কয়েক দিন পার হলেও আতঙ্ক কাটেনি সাধারণ জনগণের মধ্যে। পুলিশের মামলার ভয়ে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে গ্রামটি।

উপজেলার ইউনিয়নের রামসুন্দর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী আকবর হোসেনের এজেন্ট-কর্মীরা জাল ভোট দেওয়া নিয়ে ঘটনার শুরু। ভোট দেওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে নৌকা প্রতীকের এজেন্টরা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কেন্দ্রের ভেতরে উভয়পক্ষের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পরই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংবাদকর্মীরা কেন্দ্র ত্যাগ করার সময় রাস্তায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা অবরুদ্ধ করেন। পরে আধাঘণ্টা তারা রাস্তায় তাদের অবরোধ করে রাখেন। সেখান থেকে তারা পুনরায় কেন্দ্রে গেলে আবারো কেন্দ্রের গেটে কর্মী-সমর্থকরা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যা্ব ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও অবরুদ্ধদের কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করেন।এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানা পুলিশ ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩ হাজার জনকে আসামি করে পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে।

ফলদা শরিফুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার দত্ত আমার টাঙ্গাইল কে বলেন, মামলার ভয়ে ফলদা গ্রামসহ আশপাশের কয়েক গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এলাকায় মামলার আতঙ্কে বিকাল থেকেই দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। সমাজের বিশিষ্টজনরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ফলদা শরিফুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার দত্ত বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ ৪১ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আড়াই থেকে ৩ হাজার মানুষকে আসামি করা করেছে। ফলে ভয়ে ফলদা গ্রামসহ আশপাশের কয়েক গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

ভূঞাপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব জানান, ম্যাজিস্ট্রেট, প্রিসাইডিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখা, সরকারি কাজে বাধা, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে মামলা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Share this post

PinIt
submit to reddit

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top