দেলদুয়ারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবার ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী!

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান (মতি) এবার ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দেলদুয়ার সদর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন। এর আগে তিনি ২০০৯ সালে দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন।

এবারের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আশাও ব্যক্ত করেন মতিয়ার রহমান মতি। তবে হঠাৎ উপজেলা পরিষদ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ায় এই প্রার্থী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। নেশা, পেশা ও সমাজসেবার ব্রত নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নেন বলেও জানান।মতি বলেন, মানুষের সেবা করতে উপজেলা পরিষদের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা তৃণমূলে পৌঁছে দেয়ার অন্যতম মাধ্যম ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। এখানে উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। উভয় প্ল্যাটফর্মই জনগণের সেবার প্ল্যাটফর্ম। তিনি বর্তমানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা জাসদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বাধীনতার ইসতেহার পাঠক শাহজাহান সিরাজ, খন্দকার আব্দুল বাতেন ও মহিউদ্দিন মেহেরের অনুপ্রেরণায় করটিয়া সাদত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ১৯৬৮ সালে মতিয়ার রহমান রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগকর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মরহুম মান্নানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচরণায় অংশ নেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিএলএফের সদস্য হন। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাসনে অনুপ্রাণিত হয়ে কাদেরিয়া বাহিনীর হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর নীতিগত বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় জাসদ গঠন হলে তিনি জাসদের রাজনীতি করেন। ১৯৭৩-এর নির্বাচনে তিনি জাসদের হয়েই কাজ করেন। ১৯৭৫ সালে জাসদ ভাগ হওয়ায় তিনি শাহজাহান সিরাজের নেতৃত্বে রাজনীতি করেন।

১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৮১ সালে মতি কারামুক্ত হন। জাসদ বিএনপিতে যোগ দিলেও তিনি টাঙ্গাইলের জাসদকে ঐক্যবদ্ধ করে রাখেন। তিনি ১৯৮৮ সালে দেলদুয়ার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
১৯৯০ সালে তিনি দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ২০০৯ সালে তিনি দেলদুয়ার উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাসদের কেনদ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

মতিয়ার রহমান আমার টাঙ্গাইলকে জানান, জনপ্রতিনিধি হচ্ছে জনসেবক। যেকোন প্ল্যাটফর্মের জনপ্রতিনিধি হলে জনসেবা করার সুযোগ থাকে। এজন্যই তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হওয়ার পরও ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করছেন।নির্বাচনী মাঠ সম্পর্কে মতি বলেন, এলাকাবাসী আমাকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। তারাই আমার হয়ে কাজ করছেন। জনগণ আমার পাশে আছেন। আমার সঙ্গে নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন। সুষ্ঠু ভোট হলে তিনি জয়ী হবেন বলেও আশা ব্যক্ত করেন।

ইউপি নির্বাচন সম্পর্কে মতির ভাষ্য, এটি কোনো দল বা প্রতীকের প্রভাবমুক্ত থাকলে নির্বাচন আরও স্বচ্ছ হবে। স্থানীয় সরকার আরও শক্তিশালী হবে। এটাকে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি নীতি থেকে বেরিয়ে স্বশাসিত করা সময়ের দাবি।

Share this post

PinIt
submit to reddit

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top