দখলমুক্ত জমিতে নির্মিত ঘরে থাকবে ৩০৭ পরিবার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা ৭৫৮ শতাংশ সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তারা প্রভাবশালীদের দখলে থাকা এই বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি উদ্ধার করেন।

উদ্ধার হওয়া ওই জমির ওপর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হচ্ছে ৩০৭টি গৃহহীন পরিবারের জন্য দৃষ্টিনন্দন ঘর। প্রত্যেক পরিবার দুই শতক জায়গার ওপর দুইকক্ষ বিশিষ্ট একটি শোবার ঘর, রান্নাঘর ও বাথরুম পাবেন। ইটের দেয়াল, উপরে টিনের চাল। রয়েছে একটি বারান্দাও।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ঘরগুলো রয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের অপেক্ষায়।
২০ জুন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব ঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মির্জাপুর উপজেলায় নির্মিত আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘরগুলোর সুবিধাভোগীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের মজিদপুর, খামারপাড়া, দেওহাটা, জামুর্কী ইউনিয়নের চুকুরিয়া, ওয়ার্শী ইউনিয়নের নাগরপাড়া, ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া, ফতেপুর, মহেড়া ইউনিয়নের মহেড়া, আনাইতারা, তরফপুর ও ভাতগ্রাম ইউনিয়নে ৭৫৮ শতাংশ সরকারি খাস জমিতে ৩০৭টি ঘর নির্মিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৮০টি ঘর সম্পূর্ণরুপে প্রস্তত রয়েছে। বাকি ২৭টি ঘর নির্মাণে কাজ চলছে। গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টির কারণে ঘরগুলোর নির্মাণকাজ বিঘ্নিত হয়েছে।

ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া গ্রামের নদী ভাঙন কবলিত আয়নাল মিয়া বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে মায়ের নামে জমিসহ ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে শুনেছি। মা খবরটি জেনে খুবই খুশি হয়েছে। শেখ হাসিনা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দোয়া করেছেন।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরুফুজ্জামান জানান, প্রত্যেক ঘর নির্মাণে সরকারের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। ঘর নির্মাণে ভালো মানের টিন, সিমেন্ট, কাঠ ও রঙ ব্যবহার করা হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন জানান, গৃহহীনরা শুধু ঘর নয়, সঙ্গে পাচ্ছেন ভূমির মালিকানাও। প্রত্যেককে তার জমি ও ঘরের দলিল নিবন্ধন ও নামজারিও করে দেয়া হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির সরবরাহে ১০টি বাড়ির জন্য একটি করে গভীর নলকুপ ও যেসব গ্রামে আলাদা আলাদা বাড়ি রয়েছে তাদের জন্য একটি করে তারা টিউবওয়েল দেয়া হবে। সেজন্য উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে তালিকা দেয়া হয়েছে। দ্রুত তা বাস্তবায়ন হবে। সরকারের এটা একটা যুগান্তকারী কর্মসূচি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, দেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। তার উদ্যোগে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর করে দেয়া হচ্ছে। একসঙ্গে সারাদেশে বিপুল সংখ্যক ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর করে দেয়া এটি শুধু আমাদের দেশে নয়, বিশ্বে বিরল ঘটনা।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য মো. একাব্বর হোসেন জানান, জমিসহ ঘর করে দেয়ার এ উদ্যোগটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে। যা বিশ্বের ইতিহাসে নতুন সংযোজন। জাতির জনকের জন্মশতবর্ষে এরচেয়ে বড় অর্জন আর নেই।

Share this post

PinIt
submit to reddit

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top