সড়ক ভাঙার শঙ্কায় এসিল্যান্ডের কাছে ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে সরকারি সড়ক ঘেঁষে মেহেদী মাসুদ নামের এক ব্যক্তি ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। সরকারি সড়ক ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় মাটি কাটা বন্ধে তার মা মনোয়ারা বেগম উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) লিখিত আবেদন করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার যৌতুকী গ্রামের বালু ব্যবসায়ী মেহেদী মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার ও ভেকু মেশিনের মাধ্যমে মাটি কেটে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছে। এতে যেমন কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে অপরদিকে সরকারি সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলার সাহসও পাচ্ছে না। সম্প্রতি কাঞ্চনপুরের কালাচানপাড়া-বারকাটি সড়কের যৌতুকী এলাকায় সড়ক ঘেঁসে ভেকু দিয়ে মেহেদী মাসুদ তার নিজস্ব জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। প্রায় ২০ ফুট গর্ত করে দু’পাশ থেকে মাটি কাটায় হুমকিতে পড়েছে সড়কটি। এমতাবস্থায় মনোয়ারা বেগম সড়ক ভেঙে যাওয়ায় শঙ্কায় তার ছেলে মাসুদকে মাটি কাটতে বাধা দেয়। মাসুদ তার মায়ের কথা না শুনে গালিগালাজ করে। এরপর মাসুদের মা মনোয়ারা বেগম মাটি কাটা বন্ধে গত ১০ মার্চ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এই আবেদনের পরও রহস্যজনক কারণে মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। দেদারসে চলছে ওই মাটি কাটা। বিষয়টি নিয়ে মা মনোয়ারা বেগম ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমাদের জমি ঘেঁসেই সরকারি সড়ক রয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। এভাবে মাটি কাটলে বর্ষায় সড়কটি ভেঙে যেতে পারে। প্রথমে আমি মাসুদকে বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু মাসুদ সেটি শুনেনি। এজন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। তারপরও মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। এখনও মাটি কাটা চলছে।’

অভিযুক্ত মেহেদী মাসুদ বলেন, ‘আমার জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে সড়ক ঘেঁসে এটা ঠিক। আমার দুই ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে মা আবেদন করেছেন।’

বাসাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান নুরেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে তহশিলদারকে পাঠিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আমাদের অগোচরে আবার চালু করে। এখন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Share this post

PinIt
submit to reddit

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top